ইউক্রেন সংকট ও পক্ষপাতিত্বের সাংবাদিকতা

Date: 2022-02-21
news-banner

প্রিয় পাঠক, জুডিথ মিলারকে মনে পড়ে কি? চলতি শতকের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক টাইমসে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাদ্দাম হোসেনের বিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত গড়ে নেওয়া সম্পর্কে ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে বিশ্বকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন। মানবসভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য রাখা সেই ‘অভূতপূর্ব অবদানের’ প্রতিদান হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকতা জগতের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পুলিৎজার পুরস্কার। তার সেই সব ধারাবাহিক প্রতিবেদনকে সত্য হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র এরপর নেমেছিল ইরাক যুদ্ধে। আমরা জানি, সেই যুদ্ধের পরিণাম কী হয়েছিল।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর পশ্চিমা বিশ্বের একতরফা বিজয়ের পরপরই প্রকাশ হয়ে যায় যে জুডিথ মিলারের সেই অভিযোগের পেছনে সত্যের বিন্দুমাত্র ছোঁয়া ছিল না। শুধু তা–ই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরই আরেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেইমুর হার্শের কল্যাণে বিশ্ব আরও জেনে যায় যে জুডিথ মিলারকে সেই সব বানোয়াট প্রতিবেদন লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল স্বয়ং সিআইএ। এসব অভিযোগ যেন যুক্তিসংগতভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা নিশ্চিত করে নিতে নানা রকম জাল দলিলপত্রও গোয়েন্দা সংস্থাটি তাদের পছন্দের সেই সাংবাদিককে নিয়মিত সরবরাহ করে গেছে। সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর জুডিথ মিলার অবশ্য সংবাদের জগৎ থেকে একেবারেই হারিয়ে যান। নিউইয়র্ক টাইমস পরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাঠকদের বিভ্রান্ত করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

Leave Your Comments